মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ
চৌগাছায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি ও নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছে।
যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটক’ সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তিনজনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়। তাদের আদালতে না তুলে টানা দুই রাত নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাদের পায়ে গুলি করানো হয়। ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ভুক্তভোগীদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন তিনজন—চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। প্রসিকিউশনের দাবি, তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন।
আনিসুর রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
















