বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন আগেই বেছে নিয়েছিল এবং ২০২৪ সালের পরিবর্তন ছিল পরিকল্পিত। ওয়াশিংটনে অবস্থানরত জয় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না এবং এতে কোনো বৈধতা থাকবে না।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে সহিংসতা বাড়লে মায়ের নিরাপত্তাই ছিল পরিবারের প্রধান উদ্বেগ। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে চাননি, কিন্তু জীবনহানির আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তিনি দেশ ত্যাগ করেন। এ সময় ভারতের ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, ভারতেই তার মা সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানে আছেন।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময় উষ্ণ ছিল। ১৯৭৫ সালের ঘটনার পর পরিবারসহ দিল্লিতে থাকার সময় তৎকালীন ভারত সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ মোট ভোটের বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই দলকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। তার মতে, এতে জামায়াতে ইসলামী অতিরিক্ত আসন পাবে এবং বিএনপির সঙ্গে মিলিত হয়ে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা হতে পারে, যা দেশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহৎ দল এবং অতীতেও কঠিন সময় পার করে টিকে আছে। বর্তমান নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দলটি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে তিনি প্রহসন বলে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবং এই রায় টেকসই নয়। শেখ হাসিনা একদিন দেশে ফিরবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে জয় বলেন, সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষা হয়নি। অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে আইন পরিবর্তন করছে, যা সাংবিধানিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি সহায়তা সংস্থার অর্থ ব্যবহার করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে—এ তথ্য এখন প্রকাশ্য। তার দাবি, দূতাবাসের চাপের কারণে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চরমপন্থা প্রসঙ্গে জয় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উগ্রবাদীরা সুযোগ পেয়েছে। তার অভিযোগ, দণ্ডিত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে চলাচল করছে।
বিএনপির সম্ভাব্য বিজয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তারা সুবিধা পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণা নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে দলটি সীমিত আসন পেত, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তারা পরিস্থিতি কাজে লাগাতে পারে।
শেষে নিজের জীবন ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয় বলেন, শৈশবের অভিজ্ঞতা ও মায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলো তাকে রাজনীতিতে যুক্ত করেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে স্মরণীয় হবে।
















