দ্রুত পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ আগামী দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে গণভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একসময় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা থাকায় এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য প্রায় বারো কোটি সাতাশ লাখ মানুষ। এটি ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন এবং বহু দশকের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচন ও গণভোটকে একটি বড় উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দেবে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক চরিত্রকে দুর্বল করেছে এবং স্থিতিশীলতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় মূল লড়াই সীমিত হয়ে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্রদের মধ্যে। যদিও নিষিদ্ধ, তবু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের এখনও বড় সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যারা এখন রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় পড়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকার মধ্যবয়সী এক দর্জি ও আজীবন আওয়ামী লীগ সমর্থক কাদের মিয়া বলেন, তিনি ভোট নিয়ে খুব একটা আগ্রহ অনুভব করছেন না এবং কাকে ভোট দেবেন তা নিয়েও অনিশ্চিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বরিশালের এক ক্ষুদ্র পোশাক দোকান মালিক, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, ভোটকেন্দ্রে না গেলে তার পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কারণ তারা শেখ হাসিনার সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন এবং উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রনেতৃত্বাধীন সহিংস আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এর কয়েক মাস পর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগকে ভেঙে দেয়। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গত নভেম্বর মাসে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। এই রায়কে অনেক দেশি ও বিদেশি বিশ্লেষক তড়িঘড়ি ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।
















