জামায়াত আমিরের বিতর্কিত পোস্টের প্রতিবাদে মধুর ক্যান্টিন থেকে অপরাজেয় বাংলায় মিছিল
ছাত্রদল নেতারা বলছেন, শফিকুর রহমানের আইডি নয়, মাথা হ্যাক হয়েছে—ক্ষমা না চাইলে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নারীবিদ্বেষী পোস্টের প্রতিবাদে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রদল। দুপুরে মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল টিএসসি হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া শত শত শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল—’শফিক তুই জানিস নাকি, দেশের শক্তি অর্ধেক নারী’, ‘এমন হ্যাকার করল হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’, ‘শফিক তুই ক্ষমা চা, নারী নয় পতিতা’।
ছাত্রদলের দাবি: ক্ষমা চাইতে হবে
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমাদের এই প্রতিবাদের বক্তব্য হলো, তাকে অবশ্যই, অবশ্যই এই নারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি ক্ষমা না চান, আমরা আবারো বৃহত্তর কোনো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “জামায়াতে ইসলাম রাজনৈতিকভাবে এই বাংলাদেশে যদি সামান্যতম শক্তি অর্জন করে, এটি শুধুমাত্র নারীসমাজ নয়, এই বাংলাদেশের সবকিছুর জন্য হুমকিস্বরূপ।”
“আইডি নয়, মাথা হ্যাক হয়েছে”
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জামায়াতের হ্যাকিং দাবি নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, “অনেকে বলেন, উনার আইডি নাকি হ্যাক হয়েছে। আমরা বলছি উনার মাথা আসলে হ্যাক হয়েছে এবং উনার মুখোশ উনি নিজেই উন্মোচন করেছেন।”
জামায়াত আমিরের নির্বাচনি ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শফিকুর রহমান এর আগে তিনবার নির্বাচন করেছেন এবং সবমিলিয়ে মাত্র ৪১ হাজার ভোট পেয়েছেন।
“এখন দেখেছেন যে তার এলাকার জনগণ তাকে আর গোনে না; সেজন্য তিনি ঢাকা এসে ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করছেন,” ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন নাছির উদ্দীন।
কী ঘটেছিল শনিবার?
শনিবার বিকেলে শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয় যেখানে নারী নেতৃত্ব এবং কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
পরে রাতে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে দাবি করা হয়, শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
তবে এই হ্যাকিংয়ের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তারা বলছে, পোস্ট প্রকাশের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর হঠাৎ হ্যাকিংয়ের দাবি করা সন্দেহজনক।
অন্যান্য বক্তারা কী বললেন?
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ফারিয়া ইসলাম মেঘলা।
নারী নেতা মানসুরা আলম ও ফারিয়া ইসলাম মেঘলার উপস্থিতি এই বিক্ষোভকে আরও প্রতীকী করে তোলে, যেখানে নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যের প্রতিবাদ করা হচ্ছে।
বিতর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে?
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে। একদিকে জামায়াত দাবি করছে তাদের আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো বলছে এটি জামায়াতের প্রকৃত মানসিকতার প্রতিফলন।
নারী অধিকার কর্মীরাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার নাম থেকে এমন বক্তব্য আসা, তা হ্যাকিং হোক বা না হোক, দেশের নারী অধিকার আন্দোলনের জন্য উদ্বেগজনক।
আগামী নির্বাচনে এই বিতর্ক কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নজর রাখছেন। বিশেষত শহুরে শিক্ষিত নারী ভোটারদের মধ্যে এই ঘটনা কীভাবে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
















