টোকিওতে বৈঠকের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে যুক্তরাজ্য সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।
চার দিনের চীন সফর শেষে স্টারমার জাপানে পৌঁছান। চীন সফরে বেইজিংয়ের সঙ্গে লন্ডনের সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশের নেতারা জানান, তারা অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চান এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য আকস্মিক নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। ওই নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি আবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে।
এ সময় স্টারমার বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় শক্ত ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। ইউক্রেনকে সমর্থনে জাপানের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। অপরদিকে তাকাইচি জানান, একবিংশ শতাব্দীর জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে জাপান ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় গড়তে তিনি আগ্রহী।
বৈঠকের আগে ও পরে উভয় নেতা বলেন, মুক্ত ও পূর্বানুমেয় বাণিজ্য ব্যবস্থায় তাদের যৌথ স্বার্থ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের পূর্ব এশিয়া সফর ছিল ভারসাম্য রক্ষার কৌশল। একদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন, অন্যদিকে জাপানসহ মিত্রদের আশ্বস্ত করা যে যুক্তরাজ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
টোকিও সফরের মাধ্যমে স্টারমারের পূর্ব এশিয়া সফর শেষ হয়। এর আগে চীন সফরে শুল্ক হ্রাস, ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ এবং উল্লেখযোগ্য রপ্তানি চুক্তির অগ্রগতির কথা জানায় ডাউনিং স্ট্রিট।
















