আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও এক সপ্তাহ সময় নেবে পাকিস্তান। আইসিসির সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সম্ভাব্য বর্জনের পথও খোলা রাখছে দেশটি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি সোমবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নকভি জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার অথবা পরবর্তী সোমবার নেওয়া হবে।
নকভি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে। এর আগে শনিবার নকভি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে পাকিস্তানের।
বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের এই অবস্থান এসেছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে শনিবার র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
বুধবার আইসিসি বোর্ডের ভার্চুয়াল বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশের দাবির পক্ষে কথা বলে। পাকিস্তানের যুক্তি ছিল, আগের বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতের ম্যাচ পাকিস্তান থেকে সরিয়ে দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় ২০০৮ সালের পর পাকিস্তান সফর না করা ভারত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তাদের সব ম্যাচ খেলেছিল।
একই ধরনের ব্যবস্থা পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে দাবি করেছে দেশটি। গত বছর স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের যেকোনো একটি দেশ আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করলে অপর পক্ষ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে। সেই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলার কথা রয়েছে।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। এর বিপরীতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।
এর আগে চলতি মাসে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারতের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে না রাখার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানায়। তবে আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়।
















