গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কর্মরত নিজেদের কিছু ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিকিৎসাসেবামূলক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, গাজায় চলমান গণহত্যার সময় ইসরায়েল যেভাবে সহায়তাকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, তাতে এই তথ্য ব্যবহার করে আরও মানবিক কর্মীকে নিশানা করা হতে পারে।
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত এক হাজার সাতশর বেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে এমএসএফের অন্তত ১৫ জন কর্মীও রয়েছেন। সমালোচকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের তথ্য হস্তান্তর তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
এমএসএফ জানিয়েছে, তারা এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছিল। হয় তথ্য দিতে হবে, নতুবা ইসরায়েল তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ইসরায়েল ৩৭টি সাহায্য সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে, যার মধ্যে এমএসএফসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ছিল। ইসরায়েলের দাবি, নতুন নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নীতিমালা মানতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রবাসবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সহায়তা সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মীদের পাসপোর্ট কপি, জীবনবৃত্তান্ত এবং পরিবারের সদস্যদের নামসহ বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। যেসব সংস্থাকে ইসরায়েল রাষ্ট্রবিরোধী বা সশস্ত্র সংগঠন সমর্থনকারী মনে করবে, তাদের নিষিদ্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সমালোচকদের অভিযোগ, ইসরায়েল গাজায় ত্রাণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং মানবিক সংস্থাগুলোকে চাপের মধ্যে ফেলছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাকে আগেও ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছে, যদিও তার পক্ষে প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
এমএসএফ জানিয়েছে, তারা গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে জরুরি চিকিৎসা, অস্ত্রোপচারসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছে। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কর্মীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সীমিত পরিসরে কিছু কর্মীর নাম ইসরায়েলকে দিতে তারা রাজি হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ফিলিস্তিনি কর্মীরাও এতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানানো হয়।
তবে মানবাধিকারকর্মী ও চিকিৎসকদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি কর্মীদের নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং মানবিক নীতির পরিপন্থী। এক সাবেক এমএসএফ কর্মী বলেন, এমন সিদ্ধান্ত কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।
গাজায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা এক ব্রিটিশ চিকিৎসক বলেন, গণহত্যার সময় ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে প্রকৃত সম্মতির কথা বলা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অন্য এক গবেষক মন্তব্য করেন, অতীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে এমএসএফ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরে এসেছে, কিন্তু এবার ফিলিস্তিনি কর্মীদের ঝুঁকির মুখে রেখে কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ।
ইসরায়েল দাবি করেছে, অন্তত ২৩টি সংস্থা নতুন নিবন্ধন নীতিমালা মেনে নিয়েছে। বাকিরা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা কিছুটা কমলেও খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট তীব্র। ইসরায়েল প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক ঢোকার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার এক-তৃতীয়াংশের মতো প্রবেশ করতে পারছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও নতুন করে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম সংকটে রয়েছে।
















