৪ কোটি মানুষ দরিদ্র হলেও মন্ত্রীদের জন্য সুইমিংপুলসহ ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট; বেতন বৃদ্ধিতে ১ লাখ কোটি টাকার ধাক্কা
দেশের অর্থনীতি যখন তীব্র সংকটের মুখে, তখন নীতিনির্ধারকদের জন্য কোটি টাকার পর্দা, আসবাবপত্র আর বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের আয়োজন চলছে। একদিকে ঢাকার ওসমানী উদ্যান বা কমলাপুর স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ পলিথিন বিছিয়ে রাত কাটাচ্ছে, অন্যদিকে বেইলি রোড ও মিন্টো রোডে ৭৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মন্ত্রীদের জন্য রাজকীয় ফ্ল্যাট। বৈষম্যের এই চরম চিত্র ফুটে উঠেছে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তে, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাকে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর তোষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নবম জাতীয় বেতন স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন গড়ে ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বোঝা চাপবে।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সতর্ক করেছেন যে, যেখানে ৪৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এই বিপুল খরচ মেটানো অসম্ভব। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি আকাশছোঁয়া হতে পারে, যার খেসারত দিতে হবে সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষকে।
অন্যদিকে, আবাসন প্রকল্পের নামে চলছে নজিরবিহীন বিলাসিতা। মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তাবিত একেকটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৮,৫০০ থেকে ৯,০৩০ বর্গফুট, যা সাধারণ কর্মচারীদের বাসার চেয়ে ১৪ গুণ বড়। শুধুমাত্র সুইমিংপুলের সরঞ্জাম কিনতেই ৩ কোটি টাকা এবং পর্দা ও আসবাবপত্রে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন নির্বাচনে ৪৫ জন ঋণখেলাপির প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ব্যাংকিং খাতের লুটতরাজকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা একটি দেশে এ ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প ও নীতিহীন বিলাসিতা সুশাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















