দক্ষিণ লেবাননের শহর টাইরে ইসরায়েলি হামলায় আলি নূর আল-দীন নামে এক টেলিভিশন উপস্থাপক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। নিহত আলি নূর আল-দীন হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ আল-মানার টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, এই হত্যাকাণ্ড লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের বিপজ্জনক দিককে স্পষ্ট করেছে, যা এখন গণমাধ্যমকর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। সংগঠনটি আলি নূর আল-দীনের হত্যাকে ‘বিশ্বাসঘাতক হত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আল-মানার টেলিভিশনও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আলি নূর আল-দীন আগে তাদের চ্যানেলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। হিজবুল্লাহর তথ্যমতে, তিনি টাইরের উপকণ্ঠ আল-হাওশ এলাকার প্রধান ধর্মীয় বক্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
লেবাননের তথ্য মন্ত্রী পল মোরকোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এসব হামলা সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও রেহাই দিচ্ছে না। তিনি গণমাধ্যম পরিবারের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা দায়িত্ব গ্রহণ করে এসব লঙ্ঘন বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং লেবাননে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
এই ঘটনার আগে ২০২৩ সাল থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন লেবানিজ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি। অন্য পর্যবেক্ষকদের হিসাবে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা ১০ জন পর্যন্ত হতে পারে।
এর আগে সোমবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টাইরে এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন, যদিও তখন নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একই দিনে নাবাতিয়াহ শহরের কাছে কফর রুম্মান এলাকায় পৃথক আরেকটি হামলায় আরও দুইজন নিহত হন বলে জানানো হয়।
পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আলি নূর আল-দীনের নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এবং তাকে হিজবুল্লাহর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে। তারা নাবাতিয়াহ এলাকায় আরও দুইজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও নিশ্চিত করে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, এরপরও লেবাননে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এসব হামলায় লেবাননে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি স্থানে এখনো ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার হিজবুল্লাহ তাদের সমর্থকদের লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি জানায়, তাদের মিত্র ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মুখে রয়েছে।
এক টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম সতর্ক করে বলেন, তেহরানের ওপর যেকোনো হামলাকে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ গোটা অঞ্চলকে অস্থির করে তুলবে। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার যেকোনো হুমকিকেও সরাসরি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হুমকি বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে তেহরানও সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব হবে এমন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
















