জীবাশ্ম জ্বালানির অতিনির্ভরতা ভাঙতে কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তাগিদ
দেশে গত এক যুগে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নীতিনির্ধারকদের অনীহা তৈরি হয়েছে—এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামীর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার আশানুরূপ নয় বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা বলেন, গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার কারণেই নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অনীহা তৈরি হয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর কল্পনা নয়, এটি একটি বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি। তবে শক্তিশালী জীবাশ্ম জ্বালানি–নির্ভর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাববলয় এর বিস্তারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ১২ টাকার ওপরে, যা ভারত বা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তাঁর মতে, উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভর বাজার তৈরি করা হয়েছে।
আইইইএফএর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সোলার ইরেডিয়েশন তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেশি হচ্ছে। তবে ব্যয় কমাতে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। এ খাতে অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক পর্যায়ে কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
বৈঠকে আরও বলা হয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতিমালার অসামঞ্জস্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। শুধু কাগজে-কলমে লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, কার্যকর নীতিসহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই সবুজ জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।
















