ঢাকা: ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি পূর্বধারণকৃত অডিও বার্তায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, দেশটি এখন রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত এবং কার্যত একটি বিশাল কারাগারে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত রাষ্ট্র আজ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের আক্রমণে বিপর্যস্ত।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তাঁকে ২০২৪ সালের আগস্টে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছে। তাঁর মতে, ইউনূস সরকার গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং দেশজুড়ে ভয় ও দমন–পীড়নের শাসন কায়েম করেছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ধ্বংস করা হয়েছে, নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরবচ্ছিন্ন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে, সর্বত্র লুটপাট, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বার্তায় শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশের ভূমি ও সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, যা বাংলাদেশকে বহুজাতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি ইউনূস সরকারকে ‘বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে এর পতনের আহ্বান জানান।
তিনি গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান রক্ষা, সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার অপসারণ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। দ্বিতীয়ত, দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু, নারী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চতুর্থত, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অবসান ঘটিয়ে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা।
বার্তার শেষে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে জাতিগত পুনর্মিলনই দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে ঐক্যবদ্ধ হলে জনগণ নিজেদের দাবি আদায় করতে সক্ষম হবে।
















