ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর বক্তব্য ঘিরে দেশে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বরগুনা–২ আসনের জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসেন এক সমাবেশে সংসদ থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কোরআনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে কথা বলেছেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, তাই সংসদে কোনো অবিশ্বাসী বা তাঁর ভাষায় ‘অনৈতিক’ প্রতিনিধি থাকা উচিত নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণ কোরআনের শাসন চায় নাকি বিচ্যুতি চায়। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কোরআনভিত্তিক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি সংবিধানভিত্তিক শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করে কোরআনভিত্তিক দণ্ডবিধির পক্ষে অবস্থান নেন। বক্তব্যে চুরি প্রতিরোধে হাত কেটে দেওয়ার মতো শাস্তির কথাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এতে অপরাধ নির্মূল হবে।
সরকারি বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী রাজনীতিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উগ্র মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, ধর্মের নামে এমন বক্তব্য আদর্শগত চরমপন্থাকে উসকে দিতে পারে এবং সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সমালোচকদের মতে, সংসদ থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং সংবিধানস্বীকৃত সমতা ও প্রতিনিধিত্বের নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেটে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের দাগনভূঞায় এক হিন্দু অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়া পাবনার এক সাংস্কৃতিক কর্মীর কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও কয়েকটি ঘটনায় হিন্দু নারী ও পুরুষের ওপর নির্যাতন, গণপিটুনি ও হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্যকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকেরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন গভীর করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
















