‘ফিটনেস ও অ্যাভেইলিবিলিটি’ সাপেক্ষে সবুজ সংকেত; সাকিবের মামলা নিয়ে সরকারের সাথে কথা বলবে বিসিবি
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের জন্য ফেরার পথ খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বিসিবির দীর্ঘ আট ঘণ্টার এক সভা শেষে জানানো হয়, সাকিব যদি খেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন এবং শারীরিকভাবে ফিট থাকেন, তবে নির্বাচক প্যানেল তাঁকে জাতীয় দলে বিবেচনার জন্য স্বাধীন থাকবে। একই সাথে ২০২৬ সালের জন্য বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে ২৭ জন ক্রিকেটারকে রাখা হচ্ছে, সেখানেও সাকিবের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক সভার পর বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে সাকিবের ফেরার ক্ষেত্রে ‘ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার মতো পরিস্থিতি’ থাকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে আলোচনা করবেন।
সাকিবের ফেরার মূল শর্ত ও সুবিধাগুলো:
বিসিবি জানিয়েছে, সাকিবের প্রত্যাবর্তন মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে:
- অ্যাভেইলিবিলিটি: সাকিব নিজে খেলার জন্য উপলব্ধ কি না (তিনি ইতিমধ্যে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন)।
- ফিটনেস: নির্বাচক প্যানেল তাঁর বর্তমান শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করবে।
- নিরাপত্তা ও অ্যাক্সেসিবিলিটি: যে ভেন্যুতে খেলা হবে, সেখানে সাকিবের উপস্থিতি কতটা নিরাপদ বা সম্ভব।
বিসিবির জরুরি সভার প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:
| বিষয় | বিবরণ |
| কেন্দ্রীয় চুক্তি | ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত ২৭ জন ক্রিকেটারের তালিকায় সাকিবের অন্তর্ভুক্তি। |
| অনাপত্তিপত্র (NOC) | বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলার জন্য সাকিবকে নিয়মিত NOC দেবে বিসিবি। |
| আইনি সহায়তা | সাকিবের মামলাগুলো নিয়ে বোর্ড ‘বিসিবি সভাপতি’র মাধ্যমে সরকারের সাথে মধ্যস্থতা করবে। |
| পরবর্তী সিরিজ | আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়েই সাকিবের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা। |
প্রেক্ষাপট ও সাকিবের ইচ্ছা:
সাকিব আল হাসান দেশের হয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের কানপুরে টেস্ট খেলেছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা হওয়ায় এবং জনরোষের আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘকাল দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছিলেন, তিনি দেশের মাটিতে চেনা দর্শকদের সামনে খেলেই অবসর নিতে চান। বিসিবির এই ‘সবুজ সংকেত’ সাকিবের সেই অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণের পথকে প্রশস্ত করল। উল্লেখ্য যে, এই সিদ্ধান্তটি এমন এক দিনে এলো যখন নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সফরে না যাওয়ায় বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে আইসিসি।
















