কিশোরগঞ্জে বিএনপি-যুবদলের লড়াই, মুন্সীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে হামলা ও বরিশালে বাধা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের তিন জেলায় পৃথক নির্বাচনি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও বরিশালে হওয়া এসব সহিংসতায় অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক সংঘর্ষের বিবরণ:
১. কিশোরগঞ্জ: চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র শুক্রবার সন্ধ্যায় অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নির্বাচনি জনসভায় এই সংঘর্ষ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জনসভার শেষ দিকে কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম কিসমতের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাস্থলে পৌঁছালে চেয়ারে বসা নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন।
২. মুন্সীগঞ্জ: স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে হামলা গজারিয়া উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টায় সোনালী মার্কেট এলাকায় ২০-২৫ জন লোক লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। এতে ৭ জন আহত হয়েছেন। মহিউদ্দিন এই হামলার জন্য বিএনপি সমর্থকদের দায়ী করেছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
৩. বরিশাল: গণসংযোগে বাধা ও হাতাহাতি বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের গণসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে শরিকল হাটে লিফলেট বিতরণের সময় ধানের শীষের সমর্থকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য:
সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানিয়েছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার ওসি সোয়েব খান এবং গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী নিশ্চিত করেছেন যে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















