“ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এটি আক্ষরিক অর্থে পালন করতে হবে”
দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে দূরদর্শিতার চরম অভাব রয়েছে। জাতীয় স্বার্থে ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে এক লাইনে আসা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় তরুণদের আত্মত্যাগ এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের দার্শনিক ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারের মূল পয়েন্টসমূহ:
- জুলাই আন্দোলনের দার্শনিক ভিত্তি: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মনে করেন, জুলাই আন্দোলন ছিল মানুষের মনোজগতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বঞ্চনার এক বিস্ফোরণ। দর্শনশাস্ত্রে একে ‘বিবর্তনিক ইভালিউশন’ বলা হয়, যা সংগোপনে ঘটে এবং হঠাৎ প্রকাশ পায়।
- ঐক্যের অভাব: গত দেড় বছরে আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যারা নেতৃত্বে ছিল, তারা আজ বিভক্ত। ছোট ছোট আপসকামিতা ও সুযোগ-সুবিধা তরুণদের বিভ্রান্ত করছে।
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা: তিনি বর্তমান রাজনীতিতে ‘তোষামোদ’ বা অতিরঞ্জনের সমালোচনা করে বলেন, এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যকে আড়াল করে নেতাকে খুশি করার সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে।
- ভবিষ্যৎ রাজনীতি: রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হলেও তিনি হতাশ নন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ না মানুষের আচরণ, নৈতিক মান এবং পরম সহিষ্ণুতায় পরিবর্তন আসবে, ততক্ষণ কেবল নেতৃত্বের পরিবর্তনে সুফল মিলবে না।
সমাজ ও বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে পর্যবেক্ষণ:
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, একটি ‘সোনার দেশ’ গড়তে হলে ‘সোনার মানুষ’ বা নৈতিক মানুষের প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা কেবল পণ্যে (Commodity) পরিণত হচ্ছি, যা কার্ল মার্কসের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’ তত্ত্বের প্রতিফলন।
তরুণদের প্রতি আহ্বান ও ভূ-রাজনীতি:
তরুণদের ‘জাস্টিস’ বা ইনসাফের দাবিকে স্যালুট জানিয়ে তিনি বলেন, আবেগের সাথে বয়স্কদের বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। বাংলাদেশ কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়; চীন, ভারত ও আমেরিকার ত্রিভুজমুখী ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।
“কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ কোনো জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সাথে নৈতিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে টিকে থাকতে হবে।” — অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
















