সিরিয়ার সাব্বাদি শহরের একটি কারাগার থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কয়েদি পালিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে আইএসআইএসের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা রয়েছে বলে জানা গেছে। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী এসডিএফ এবং সিরিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এই ঘটনা ঘটল।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাব্বাদি শহরের একটি কারাগার থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এই কারাগারে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএসের (ISIS) দুর্ধর্ষ যোদ্ধারা বন্দি ছিলেন বলে জানিয়েছে কুর্দি সংবাদমাধ্যম ‘রুদো’। এই গণপলায়নের ঘটনা সিরিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) মুখপাত্র ফরহাদ শামী দাবি করেছেন, সাব্বাদিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী অভিযান চালানোর ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে কয়েদিরা পালিয়ে গেছে। তবে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, কুর্দি এসডিএফ যোদ্ধারাই ইচ্ছাকৃতভাবে আইএসের যোদ্ধাদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সংকট: ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল সারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী এসডিএফকে সিরিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেন। তবে সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই সরকারি বাহিনী কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর দখল নিতে অভিযান শুরু করে।
গত কয়েকদিন ধরে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলার পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে এই চুক্তির মধ্যেই কারাগার থেকে বিপুল সংখ্যক আইএসের কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইএসের এই বিপুল সংখ্যক প্রশিক্ষিত যোদ্ধার পলায়ন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নতুন করে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে পলাতক কয়েদিদের ধরতে ওই এলাকায় সেনাবাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে নতুন করে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
















