২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিলেন ট্রাইব্যুনাল
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক ২৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের আনা তিনটি পৃথক অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে আদালত পলাতক আসামিদের আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আসামিদের তালিকা:
- নিহতদের পরিচয়: প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন শহীদ হন।
- মূল আসামি: পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
- গ্রেপ্তারকৃত আসামি: বর্তমানে ৪ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল এবং সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
- প্রমাণ ও সাক্ষী: চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, আসামিদের প্রত্যক্ষ উস্কানি ও নির্দেশে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে যার স্বপক্ষে ৫০ জন সাক্ষী ও পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ তদন্ত সংস্থার হাতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে সংঘটিত এই হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। পলাতক ২৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
















