ইসরায়েলের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন গঠনের প্রশ্নটি এখন কূটনৈতিক আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে কায়রোর আলোচনার টেবিলে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করতে সাবেক জাতিসংঘ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভকে সামনে এনেছে ওয়াশিংটন।
আরব দেশগুলোর আপত্তির মুখে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে বাদ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন ম্লাদেনভ। বর্তমানে তিনি কায়রোতে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। উদ্দেশ্য হলো হামাসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি তথাকথিত টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠন করা।
৫৩ বছর বয়সী এই বুলগেরীয় কূটনীতিক এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি মধ্যপ্রাচ্যে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতার কারণে তিনি একজন ‘সংকট সামালদাতা’ হিসেবে পরিচিতি পান।
এবার নতুন ভূমিকায় ম্লাদেনভকে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মহাপরিচালক করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব হলো হামাসের নিয়ন্ত্রণ থেকে গাজাকে সরিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথের নেতৃত্বে একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনে রূপান্তর প্রক্রিয়া তদারক করা। পরিকল্পনার মূল অংশে রয়েছে ‘অননুমোদিত সব সশস্ত্র শক্তিকে নিরস্ত্রীকরণ’, যা কার্যত হামাসের সামরিক শক্তি ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যকে নির্দেশ করে।
এই দায়িত্ব বাস্তবায়ন সহজ নয়। একদিকে গাজার দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল এখনো অঞ্চলটির বড় অংশে সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় বসাতে হবে ম্লাদেনভকে।
জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে কাজ করলেও, নতুন ভূমিকায় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন কাঠামোর অধীনে কাজ করতে হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এই পরিবর্তন তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
২০২১ সালের পর থেকে তিনি আবুধাবিতে অবস্থিত আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি বা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। এই অবস্থান ফিলিস্তিনি জনমনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এখন কায়রোর বৈঠকগুলোতে ম্লাদেনভের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। তিনি শুধু একজন মধ্যস্থতাকারী নন, বরং এমন এক আন্তর্জাতিক রূপরেখার বাস্তবায়নকারী, যা ওয়াশিংটনে তৈরি হলেও বাস্তবায়ন করতে হবে চলমান ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির মধ্যেই।













