ফেনীতে কলেজছাত্র মাসুম হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ; নিজাম হাজারীসহ শীর্ষ নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ফেনীর মহিপালে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান এই মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। এটিই ফেনীতে জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত দায়ের হওয়া ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার চার্জশিট গ্রহণ। মামলার তদন্তে শেখ হাসিনা ও নিজাম হাজারীকে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কলেজছাত্র মাসুম। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালত আজ এই ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করলেন।
আদালতের আদেশ ও মামলার গতিপ্রকৃতি
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন জানান, পুলিশি তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, দলমত নির্বিশেষে তাদেরই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- চার্জশিট ও আসামি: গত বছরের জুলাই মাসে ১৭১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। মামলায় এজাহারনামীয় ১৫৬ জনসহ মোট ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ১০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
- গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি: মামলায় এ পর্যন্ত ৫১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নির্দেশদাতা ও হাই-প্রোফাইল আসামি
মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে: ১. সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আসাদুজ্জামান খান কামাল। ২. সাবেক সংসদ সদস্য: নিজাম উদ্দিন হাজারী ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ৩. আওয়ামী লীগ নেতা: জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী এবং বিভিন্ন উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যানবৃন্দ।
নিহত মাসুমের পরিচয়
সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে মাহবুবুল হাসান মাসুম ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। ৪ আগস্ট গুলিবিন্ধ হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তিনি মারা যান। তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ৭টি হত্যাসহ মোট ২২টি মামলা চলমান রয়েছে, যেখানে ২ হাজারেরও বেশি এজাহারনামীয় আসামি রয়েছেন। আজকের এই আদেশের পর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
















