জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মর্যাদা পেল ল্যান্ড সার্ভে ও শিশু ধর্ষণ দমন ট্রাইব্যুনাল
দেশের বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে তিন ধরনের আদালতকে ‘বিশেষ আদালত’ হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ১২ জানুয়ারি (সোমবার) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে পারিবারিক আপিল আদালত, শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালকে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। ‘বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন, ২০০৩’-এর ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই আদালতগুলো দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সমমানের ক্ষমতা ভোগ করবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এই বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালগুলোর প্রশাসনিক ও বিচারিক কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
আদালতের নতুন রূপ ও নামকরণ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসব আদালত এখন থেকে দুটি ভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে:
- দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে: এসব ট্রাইব্যুনালকে ‘বিশেষ জেলা জজ আদালত’ হিসেবে অভিহিত করা হবে।
- ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে: এগুলো ‘বিশেষ দায়রা জজ আদালত’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
যেসব আদালত এই ঘোষণার আওতাভুক্ত
সরকারের এই প্রজ্ঞাপন সারা দেশে অবস্থিত নিচের আদালতগুলোর ওপর কার্যকর হবে: ১. সকল পারিবারিক আপিল আদালত। ২. সকল শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। ৩. সকল ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল।
কেন এই পরিবর্তন?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ল্যান্ড সার্ভে বা শিশু ধর্ষণ দমনের মতো সংবেদনশীল মামলাগুলো প্রশাসনিক জটিলতায় ঝুলে থাকত। এই আদালতগুলোকে বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মর্যাদা দেওয়ায় বিচারকদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং মামলার রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুত্বর অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
















