প্রকল্প চালুর পর মাত্র ১৫টি ট্রেন চলাচল; থমকে আছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম
বিপুল অর্থ ব্যয়ে মোংলা–যশোর রেলপথ নির্মিত হলেও নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল না করায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি চালু হওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কোনো গতি আসেনি। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি পাঁচ দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালে যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত বগি বা ট্রেনের ব্যবস্থা নেই। মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে ভারত, নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট রুট হিসেবে এই লাইনটি ব্যবহারের মহাপরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। এখন পর্যন্ত মোংলা থেকে কেবল চিটাগুড় নিয়ে মাত্র ১৫টি ট্রেন সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটে যাতায়াত করেছে, যা এই বিশাল বিনিয়োগের তুলনায় নগণ্য।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পে রূপসা নদীর ওপর সোয়া ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুসহ ১১টি প্ল্যাটফর্ম ও ১০৭টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, মোংলা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি দ্রুত পণ্যবাহী ট্রেন চালু করা জরুরি। মোংলা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এস এস মনির আহম্মেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশীয় রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চললেও পণ্য পরিবহনের বিষয়টি এখনো গতি পায়নি। তবে রেল কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, মোংলা থেকে নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রেন চালুর পরিকল্পনা তাদের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই পথটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যিক পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















