পাকিস্তান চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহেই প্রতিরক্ষা খাতে দুটি বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির একটি চুক্তি শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরবও প্রায় ২০০ কোটি ডলারের একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে এই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ছাড়াও এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ জেএফ–১৭ কিনেছে এবং আরও কয়েকটি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেএফ–১৭ থান্ডার নিয়ে বৈশ্বিক আগ্রহ স্পষ্টভাবে বেড়েছে। এটি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেএফ–১৭-এর প্রতি আগ্রহের প্রধান কারণ এর তুলনামূলক কম দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে এই যুদ্ধবিমানের মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি ডলারের মধ্যে। কম দামের পাশাপাশি কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা বিষয়টিও অনেক দেশের জন্য এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। যুদ্ধবিমানটি যৌথভাবে নির্মাণ করছে চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন এবং পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স।
গত এক দশকে মিয়ানমার, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলো তাদের বিমানবহরে জেএফ–১৭ যুক্ত করেছে। মিয়ানমার ২০১৫ সালে প্রথম দেশ হিসেবে অন্তত ১৬টি ব্লক–২ জেএফ–১৭ অর্ডার দেয়, যার মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। নাইজেরিয়া ২০২১ সালে তিনটি জেএফ–১৭ তাদের বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২৪ সালে আজারবাইজান প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ১৬টি জেএফ–১৭ কেনার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশটি পাঁচটি যুদ্ধবিমান প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে।
এ ছাড়া ইরাক, শ্রীলঙ্কা ও সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশ জেএফ–১৭ কেনার আগ্রহ দেখালেও এখনো সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে জেএফ–১৭ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান। তবে চীনের বিমান বাহিনী এই মডেলটি ব্যবহার করে না, কারণ চীনের হাতে আরও উন্নত প্রজন্মের নিজস্ব যুদ্ধবিমান রয়েছে।
বিশ্বের আধুনিকতম যুদ্ধবিমান হিসেবে বর্তমানে পঞ্চম প্রজন্মের বিমানগুলোকে বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ–২২ ও এফ–৩৫, চীনের জে–২০ ও জে–৩৫ এবং রাশিয়ার সু–৫৭। এসব বিমান খুব অল্প কয়েকটি দেশের কাছে রয়েছে। জেএফ–১৭-এর ব্লক–৩ সংস্করণকে ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে ধরা হয়, যা সুইডেনের গ্রিপেন, ফ্রান্সের রাফাল, ইউরোফাইটার টাইফুন, ভারতের তেজাস ও চীনের জে–১০-এর সমপর্যায়ের বলে মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোতে বিশেষ আবরণ ব্যবহার করা হয়, যা রাডার সিগনেচার কমিয়ে দেয়। শত্রুপক্ষের রাডার এলাকায় প্রবেশ করলে এসব বিমান ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজারের মাধ্যমে সংকেত জ্যাম করার চেষ্টা করে। এই সক্ষমতার কারণেই জেএফ–১৭ অনেক দেশের জন্য কার্যকর ও সাশ্রয়ী একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের আগ্রহ বাস্তব চুক্তিতে রূপ নিলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
















