চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুরে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা সমর্থন ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী ও বিতর্কিত সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সামনে থেকে তাঁকে ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। আটক হাসান মুহাম্মদ রোমান চবি আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিলেন এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ চবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিউটি করার জন্য আমন্ত্রণপত্র পাওয়ায় পরীক্ষার গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ক্যাম্পাসে আসেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক গুরুতর তদন্ত চলমান রয়েছে। তাঁর উপস্থিতির খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে চাকসু প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করতে এগিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসান রোমান আইন বিভাগের প্রধান ফটক দিয়ে না গিয়ে পেছনের নির্জন রাস্তা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে তাঁকে ধরে ফেলেন। আটকের সময় তাঁকে অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় উচ্চস্বরে চিৎকার ও কান্না করতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ অভিযোগ করেন, হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ শুধু জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাই করেননি, বরং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছিলেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি ছাত্রলীগকে প্রত্যক্ষভাবে ক্যাডার সরবরাহে সহায়তা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংস হামলা চালানোর দিকনির্দেশনা দিতেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান রোমানকে শিক্ষার্থীরা আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। প্রক্টর বলেন, “আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব জাস্টিস’ করা হতে পারে—এমন একটি গুঞ্জন বা খবর শুনে তিনি ভয় পেয়ে পালাতে চাচ্ছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রক্টর অফিসে আমাদের হেফাজতে নিরাপদ আছেন। তদন্তাধীন কোনো বিষয় বা শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও বিতর্কিত শিক্ষকদের পরীক্ষা বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত করা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
















