চন্দ্র ও সৌর ক্যালেন্ডারের ব্যবধানে একই বছরে দুইবার পালিত হবে আরাফাতের দিন ও কোরবানি; ২০৩০ সালে দুবার রমজান
বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য ২০৩৯ সালটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিরল এক বছর। জ্যোতির্বিজ্ঞানের সুক্ষ্ম হিসাব অনুযায়ী, ওই একই ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান বছরে মুসলমানরা দুইবার হজ পালন করবেন এবং তিনটি ঈদ উদযাপন করার অনন্য সুযোগ পাবেন। সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মূলত হিজরি বা চন্দ্রবর্ষের সঙ্গে সৌরবর্ষভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের যে গাণিতিক ব্যবধান রয়েছে, তার ফলেই ইতিহাসের এই বিরল ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। সাধারণত ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে থাকে, যার ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর ইসলামি মাসগুলো পুরো ইংরেজি বছরকে প্রদক্ষিণ করে।
ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালিত হবে। এটি হবে হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ, যা মূলত পবিত্র হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের কোরবানির দিন। এরপর দিনপঞ্জিকার হিসেবে প্রায় ১২ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর হিজরি বর্ষপঞ্জি পুনরায় একটি চক্র সম্পন্ন করবে।
এর ফলে একই ইংরেজি বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর তারিখে আবারও হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজ বা দ্বিতীয় ঈদুল আজহা পালিত হবে। অর্থাৎ, ক্যালেন্ডারের পাতায় ২০৩৯ সালটি এমনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে যেখানে বছরের শুরুতে এবং শেষে দুইবার হজের পূর্ণাঙ্গ মৌসুম ও কোরবানি ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। এটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার বছর হিসেবে বিবেচিত হবে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ২০৩৯ সালে কোরবানির ঈদের পাশাপাশি ঈদুল ফিতরও উদযাপিত হবে। জ্যোতির্বিদদের হিসাব বলছে, ওই বছরের ১৯ অক্টোবর পবিত্র ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জানুয়ারি মাসে একটি ঈদুল আজহা, অক্টোবর মাসে ঈদুল ফিতর এবং ডিসেম্বর মাসে পুনরায় আরেকটি ঈদুল আজহা—এই মিলিয়ে এক বছরে মোট তিনটি ঈদ পালিত হবে। শুধু ঈদ নয়, এই দুই হজের জন্য দুটি পৃথক ‘আরাফার দিন’ও ওই একই বছরে পড়বে। আরাফার দিনটি হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। অর্থাৎ একই বছরের মধ্যে দুইবার হাজিদের আরাফাতের ময়দানে লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হতে দেখা যাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চন্দ্রবর্ষ এবং সৌরবর্ষের এই পার্থক্যের প্রভাব কেবল হজ বা ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর আগে ২০৩০ সালে মুসলমানরা একই ইংরেজি বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করার বিরল অভিজ্ঞতা পাবেন। ২০৩০ সালের জানুয়ারি মাসে একবার রমজান শুরু হবে এবং ডিসেম্বরে গিয়ে পুনরায় আরেকবার রমজানের চাঁদ দেখা যাবে। এর আগে ১৯৯৭ সালে অর্থাৎ প্রায় ৩৩ বছর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল।
ইসলামি ক্যালেন্ডার যেহেতু চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল এবং এতে বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের, অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক হওয়ায় এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ১১ দিনের পার্থক্যের কারণেই প্রতি ৩৩ বছর অন্তর ইসলামি মাসগুলো ইংরেজি বছরের সব মৌসুমে ঘুরে ফিরে আসে। ২০৩৯ সালের এই বিরল ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক চক্রটি তাই বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
















