সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ক বলেছেন, তাঁর প্ল্যাটফর্মের সমালোচকেরা যে কোনো ঘটনাকে ‘সেন্সরশিপের অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি এক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক দিয়ে অনুমতি ছাড়া মানুষকে নগ্ন বা যৌনভাবে উপস্থাপন করা ছবি তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসব ছবির মধ্যে নারী ও শিশুর ছবিও থাকার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার ও যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা Ofcom জানিয়েছে, তারা এক্সের বিষয়ে জরুরি মূল্যায়ন শুরু করেছে। প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল এই উদ্যোগকে সমর্থন করে বলেছেন, নারী ও শিশুদের ছবি যৌনভাবে বিকৃত করা জঘন্য ও নিন্দনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যেই অফকম এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাবে।
এই ঘটনার পর এক্স তাদের এআই ইমেজ জেনারেশন সুবিধা সীমিত করে কেবল অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট এ সিদ্ধান্তকে যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি ‘অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, তারা এমন একাধিক উদাহরণ দেখেছে যেখানে বিনা মূল্যের গ্রোক টুল অনুমতি ছাড়াই নারীদের পোশাক খুলে বা যৌন পরিস্থিতিতে উপস্থাপন করেছে। ইলন মাস্কের এক সন্তানের মা ও রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বিবিসি নিউশাওয়ারকে বলেন, গ্রোক তাঁর শৈশবের ছবি ব্যবহার করে যৌনরূপে বিকৃত ছবি তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, তিনি স্পষ্টভাবে অসম্মতি জানানোর পরও এ ধরনের ছবি তৈরি করা হয়েছে।
সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, এক্স অবৈধ কনটেন্ট, বিশেষ করে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, “একজন প্রকৌশলীর কাছে একটি নির্দেশ দিলেই এটি বন্ধ করা সম্ভব।”
শুক্রবার পর্যন্ত গ্রোক ব্যবহারকারীদের জানাচ্ছিল যে ছবি তৈরি ও সম্পাদনার সুবিধা এখন কেবল অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের জন্য সীমাবদ্ধ। এ জন্য সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে।
অফকমের এক মুখপাত্র জানান, তারা সোমবারই এক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুক্রবারের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে সময় বেঁধে দেয়। সংস্থাটি এক্সের জবাব পেয়েছে এবং এখন দ্রুতগতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি আইনের আওতায় অফকম প্রয়োজনে আদালতের আদেশের মাধ্যমে এক্সের অর্থায়ন বা যুক্তরাজ্যে প্রবেশাধিকার বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে। কেন্ডাল জানিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে সরকার অফকমকে পূর্ণ সমর্থন দেবে।
এদিকে গ্রোকের মাধ্যমে অনুমতি ছাড়া যৌন ছবি তৈরির ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে লজ্জাজনক ও ঘৃণ্য বলে মন্তব্য করেছেন। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ একে ভয়াবহ বললেও এক্স নিষিদ্ধ করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হবে বলে মত দেন। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত চলাকালে যুক্তরাজ্যে সাময়িকভাবে এক্সের প্রবেশাধিকার সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
















