ফেলানী হত্যার বিচার ও গুম-খুন বন্ধে ‘অধিকার’-এর মানববন্ধন
বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ সীমান্তে ফেলানী হত্যার বিচারসহ সকল গুম ও খুনের ঘটনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ‘অধিকার’ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা ভারতের সীমান্ত নীতিকে ‘বর্বর’ বলে অভিহিত করেন। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ১৭ মাস অতিবাহিত হলেও সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। অধিকার-এর পরিচালক এস এম নাসির উদ্দিন এলান অভিযোগ করেন যে, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে ভারতকে তোষণ করার নীতি অনুসরণের কারণে সীমান্ত হত্যা বিচারহীন থেকেছে। তারা ভারতে পালিয়ে থাকা পতিত সরকারের অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম সীমান্ত হত্যাকে ‘নিম্নমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ভারতকে তোষণ করে দেশ চালানোর দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি অনতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। কর্মসূচিতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা উপস্থিত হয়ে তাদের প্রিয়জনদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতের এই আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারের কাছে দাবি করেন যাতে ফেলানী হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়।
















