রাত ৩টা থেকে পারাপার স্থগিত; রাজধানীমুখী যাত্রী ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি, চরম ভোগান্তি
শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পদ্মাপাড়। দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত নিচে নেমে আসায় নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল স্থগিত রয়েছে। এতে মাঝনদীতে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে আটকা পড়েছে দুটি ফেরি। ফলে ঢাকা থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।
বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা এরিয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ফেরির মার্কিং লাইটের আলো অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় চালকরা দিকনির্ণয় করতে না পারায় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিগুলো ঘাটে নোঙর করতে বাধ্য হন।
ঘাটে ও মাঝনদীতে আটকা পড়া ফেরিগুলোর অবস্থান
বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আব্দুস সালাম জানিয়েছেন:
- পাটুরিয়া প্রান্ত: ৩ নম্বর ঘাটে রো-রো ফেরি ‘গোলাম মাওলা’ ও ‘ভাষা শহীদ বরকত’ এবং ৪ নম্বর ঘাটে ‘শাহ পরান’ ও ‘এনায়েতপুরী’ নোঙর করে আছে।
- দৌলতদিয়া প্রান্ত: ৭ নম্বর ঘাটে নোঙর করে আছে রো-রো ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’, ‘শাহ মখদুম’ ও ইউটিলিটি ফেরি ‘হাসনাহেনা’।
- মাঝনদী: কুয়াশার জালে আটকে পড়ায় মাঝনদীতে নোঙর করেছে দৌলতদিয়াগামী যাত্রী ও যানবাহন বোঝাই আরও দুটি ফেরি। কনকনে শীতে মাঝনদীতে অবস্থানরত যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভোগান্তির কবলে যাত্রীরা
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটের দুই প্রান্তে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়েছে। এর মধ্যে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আসা যাত্রীরা তীব্র শীতে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন। অনেক ট্রাক চালক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিআইডব্লিউটিসি জানায়, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট সাময়িক পরিস্থিতি। কুয়াশার ঘনত্ব কমলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে আসার সাথে সাথেই ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। বর্তমানে উভয় ঘাটের পন্টুনে আটকে পড়া যানবাহনগুলোর সিরিয়াল বজায় রাখতে স্থানীয় পুলিশ ও ঘাট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
















