৫ আগস্টের পর ভারতের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর; জানাজায় অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার নেতারো
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। দুপুর পৌনে ১২টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সংসদ ভবন এলাকায় গিয়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের কোনো শীর্ষ মন্ত্রীর এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | দুপুর ০২:১৫ মিনিট
কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। আজ বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শোকাবহ আয়োজনে অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি পাকিস্তান ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।
জানাজায় বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছাড়াও খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন:
- পাকিস্তান: দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক।
- নেপাল: নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা (মঙ্গলবার রাতে পৌঁছেছেন)।
- অন্যান্য: শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরগুলো মূলত শোকের হলেও এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত শোকবার্তা এবং জয়শঙ্করের উপস্থিতি বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জনসমুদ্র
প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ও ফার্মগেট অভিমুখে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা জানাজায় শরিক হতে এসেছেন। জানাজা পড়াবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাঁর স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল
অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দাফন ও জানাজা উপলক্ষে ‘সর্বোচ্চ’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সংসদ ভবন ও জানাজাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ প্রায় ১০ হাজার সদস্য। জানাজায় ভিড় এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দাফন কার্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজ বিকেলেই নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এর আগে তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে জানা গেছে।















