সত্যপীর ব্রিজ এলাকায় শতবর্ষী মাজারে হামলা, তদন্তে প্রশাসন
ঠাকুরগাঁও শহরে রাতের আঁধারে একটি ঐতিহাসিক মাজারে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভক্ত ও এলাকাবাসী।
ঠাকুরগাঁও শহরের সত্যপীর ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজারে রাতের কোনো এক সময়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা মাজারে গিয়ে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত ভক্ত আশেকান মাজারে জড়ো হন এবং ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মাজারে ভক্তরা ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা মাজারে প্রবেশ করে কবর ভাঙচুর করে এবং মাজারের প্রধান ঘরের দরজা ও জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মাজারের ভক্ত আলীম হোসেন বলেন, মাজারটি তার জন্মেরও আগের এবং এখানে কখনো কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে মাজার ও কবর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মাজার কমিটির সভাপতি এনামুল হক বলেন, শত শত ভক্ত নিয়মিত এই মাজারে আসেন এবং কখনোই কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, মাজারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তবে কোনো চুরির আলামত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি, তাই এটি পরিকল্পিত ভাঙচুর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
















