চলতি বছর ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর বীমা বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ কেটে রাখা অর্থ ফেরত দিয়েছে সৌদি আরব। এই অর্থের পরিমাণ ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
ধর্মমন্ত্রী জানান, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার দেশের নাগরিকদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বেসরকারি হজ এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় আসা ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানার পর ধর্ম মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে এবং গত ২৯ অক্টোবর সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত আসে।
কায়কোবাদ উল্লেখ করেন, এটি সৌদি আরবের কোনো ভুল ছিল না। অসুস্থ ব্যক্তি, মানসিক ভারসাম্যহীন, ক্যানসার ও কিডনি রোগী এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হজে পাঠাতে নিষেধ করে সৌদি সরকার। কিন্তু চিকিৎসকদের কিছু অবহেলার কারণে এমন ব্যক্তিরা হজে যাওয়ার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সৌদি আরব দয়া করে আমাদের কথা শুনেছে ও বিবেচনা করেছে, এ জন্য আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আশা করি, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।
মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের হজের বিমান ভাড়া চলতি বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।






















