মার্টিন লুথার কিং-এর ছায়ায় পূর্বাচলের জনসমুদ্রে শান্তির ডাক দিলেন তারেক রহমান; ১৮ কোটি মানুষের দৃষ্টি এখন নতুন পরিকল্পনায়
১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালে মার্টিন লুথার কিং শুনিয়েছিলেন তার স্বপ্নের কথা। ঠিক ছয় দশক পর ঢাকার পূর্বাচলে সতেরো বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমান শোনালেন এক নতুন পরিকল্পনার কথা। ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে তার এই ১৭ মিনিটের ভাষণকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত হিসেবে।
তারেক রহমান—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এক অবিস্মরণীয় আবেগের নাম। ১৭টি দীর্ঘ বছর জন্মভূমি থেকে দূরে থেকেও যার অন্তরে মিশে ছিল বাংলাদেশের ধূলিকণা। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) যখন তিনি বিমানবন্দরে নামলেন, শুরুতেই খালি পায়ে মাটির স্পর্শ নিলেন। এই এক নিভৃত আবেগ মুহূর্তেই ছুঁয়ে গেল উপস্থিত লাখো মানুষকে।
জনসমুদ্রে ৩ ঘণ্টার এক মহাকাব্যিক যাত্রা
বিমানবন্দর থেকে সমাবেশস্থলের দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের। কিন্তু সেই পথ পেরোতে তারেক রহমানের সময় লেগেছে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা। ১২ কিলোমিটারের দীর্ঘ সড়ক স্লোগান আর মানুষের মিছিলে স্থবির হয়ে গিয়েছিল। শুধু দলীয় কর্মী নয়, হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন ১৭ বছর পর ফেরা এই মানুষটিকে একপলক দেখতে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ তখন টেলিভিশন আর মোবাইলের পর্দায় নিবদ্ধ ছিল, যা এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
মার্টিন লুথার কিং ও তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’
১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট মার্টিন লুথার কিং শুনিয়েছিলেন তার বিখ্যাত ‘I have a dream’ ভাষণ। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান উচ্চারণ করলেন, “I have a plan for the people of my country.” লুথার কিং যেভাবে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শান্তির ডাক দিয়েছিলেন, তারেক রহমানও তেমনি ধর্ম-বর্ণ-দল নির্বিশেষে এক ইনসাফভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা পেশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক দেশ চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।”
শহীদ হাদী ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বন্দনা
বক্তব্যের শুরুতেই মহান সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করে তারেক রহমান স্মরণ করেন একাত্তরের শহীদদের। সশ্রদ্ধচিত্তে তিনি তুলে ধরেন ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বীরত্বগাথা। অতি সম্প্রতি শহীদ হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে এই দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক আর মাদ্রাসার ছাত্ররা।
উসকানির মুখে ধৈর্যের পরীক্ষা
দীর্ঘ ভাষণে কোনো ব্যক্তি বা দলের নাম উচ্চারণ না করে গত ১৫ বছরের গুম-খুনের রাজনীতির অবসান চাইলেন তিনি। নেতা-কর্মীদের প্রতি তার কড়া বার্তা ছিল— “যেকোনো উসকানির মুখে আমাদের ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। আমরা বাংলাদেশে কেবল শান্তি চাই।” মঞ্চে উপস্থিত বিএনপির শীর্ষ নেতা ও অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলেন এই নতুন নেতার আধুনিক রাজনৈতিক বয়ান।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতার ফিরে আসা নয়; বরং এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের এক নতুন সংগ্রামের সূচনা। মার্টিন লুথার কিং-এর মতো তিনিও আজ দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের চোখে এক সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন।
















