ডাকসুর দাবির পর রাতে হলের নামফলক পরিবর্তন, প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম মুছে সেখানে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছে। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল–এর নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে হলের সামনে একটি ক্রেন আনা হয় এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুরোনো নাম অপসারণ করে নতুন নাম লেখা হয়।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম পরিবর্তন করে ফেলানী হল রাখার দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার সমর্থন দেওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আইকন মুজিবের দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার জন্য ক্রেন আনা হয়েছে। সেখানে শহীদ ওসমান হাদির গ্রাফিতি আঁকা হবে।’ তাঁর বক্তব্যের পরই রাতে হলের নামফলক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হল প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয় এবং নাম পরিবর্তনের পক্ষে স্লোগান দেয়। তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি–এর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর নাম বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি ওঠে। ঢাবিতে হলের নাম পরিবর্তনের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এ ধরনের নাম পরিবর্তন কতটা বৈধ—তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যেও আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
















