যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও সম্প্রসারণ করেছেন। নতুন করে ফিলিস্তিন ও সিরিয়াসহ ছয়টি দেশকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়, যা অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী ফিলিস্তিন, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে জুন মাসে ঘোষিত তালিকায় ১২টি দেশের নাম ছিল, যার সঙ্গে এবার আরও ছয়টি দেশ যুক্ত হলো।
তবে ঘোষণাপত্রে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, তাই আদেশে ‘প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি ডকুমেন্টস’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের বর্ণনা করা হয়েছে এমন ব্যক্তি হিসেবে, যারা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জারি বা অনুমোদিত ভ্রমণ নথি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং অতীতে তারা মার্কিন নাগরিকদের হত্যা করেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে নিরাপত্তা যাচাই ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব বিবেচনায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নথি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প তথাকথিত ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে অভিবাসনের ওপর স্থায়ী বিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তিনি এ বক্তব্য দেন।
সিরিয়ার ক্ষেত্রেও হোয়াইট হাউস বলেছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার চেষ্টা করলেও সেখানে এখনো পাসপোর্ট ও নাগরিক নথি ইস্যুর জন্য কার্যকর কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই এবং পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ব্যবস্থাও অনুপস্থিত। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা নভেম্বরে হোয়াইট হাউস সফর করলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে সে বিষয়টি প্রভাব ফেলেনি।
এই নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলাতে চাইছে। তিনি বলেন, গণহত্যা থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদেরও নিষিদ্ধ করা এই প্রশাসনের নির্মমতারই প্রমাণ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড অস্ট্রেলিয়ায় একটি ইহুদি উৎসবে হামলার ঘটনার উদাহরণ টেনে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, ইসলামপন্থী উগ্রবাদ বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষা ও অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন বন্ধ করা জরুরি।
ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্ররাও ক্রমেই মুসলিমবিরোধী বক্তব্য জোরদার করছেন। সম্প্রতি সিনেটর টমি টিউবারভিল ইসলামকে একটি ‘কাল্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মুসলিমদের পশ্চিমা বিশ্ব দখলের চেষ্টা করছে বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সময় ট্রাম্প মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছিলেন। পরে তার প্রথম মেয়াদে বেশ কয়েকটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এবারের সিদ্ধান্তকে সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
















