গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়া নিয়ে ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপিয়েছে। রোববার উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছে, অপর পক্ষের লঙ্ঘন ও পদক্ষেপের কারণেই শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ এগোচ্ছে না।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসে গাজা সিটির কাছে এক ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার রায়েদ সাদের নিহত হওয়ার পর। হামাস বলছে, এই হত্যাকাণ্ড যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি পরিকল্পনা হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো শেষ বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করছে না এবং গোপনে আবার সামরিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হামাসের গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়া রায়েদ সাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড চুক্তির ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করছে। তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করেন।
অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ রাখা, জীবিত বন্দি ও মৃতদের মরদেহ বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল। এসব শর্ত পূরণ হলে দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ফিলিস্তিনি নিরস্ত্রীকরণ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তির কথা রয়েছে।
তবে গাজার কর্তৃপক্ষের দাবি, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ৮০০টি আক্রমণে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে এবং একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার আগে তারা শেষ ইসরায়েলি বন্দি র্যান গিভিলির মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার রায়েদ সাদের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান নেন এবং বলেন, সাদ গাজায় হামাসের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের মূল দায়িত্বে ছিলেন।
নেতানিয়াহুর ভাষায়, সাদ অস্ত্র মজুত ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার নীতির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, গিভিলির মরদেহ ফেরত আনার জন্য ইসরায়েল কায়রোসহ বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে, কিন্তু ইসরায়েল আগে বন্দির মরদেহ ফেরত পাওয়াকে শর্ত হিসেবে দেখছে।
নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ প্রায় শেষের পথে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে ইসরায়েল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তার কথায়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ইসরায়েলই নির্ধারণ করবে।
















