ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, উত্থাপন করা হলো ৫ দফা দাবি
ছাত্র অধিকার পরিষদ গুরুতর আহত হাদির হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে। সংগঠনটির নেতারা প্রধান উপদেষ্টার মাঝে শেখ হাসিনার প্রতিচ্ছবি দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন এবং এদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২৪ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সহায়ক এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে না পারার ঘটনাকে সরকার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এই ব্যর্থতার জন্য সংগঠনের নেতারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান মন্তব্য করেন, “প্রধান উপদেষ্টার মাঝে শেখ হাসিনার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। শেখ হাসিনা যেমন খুন, গুম করে তাদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতেন, ডক্টর ইউনূসও তাই করছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দেশের মানুষ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কার্যকর পদক্ষেপ আশা করে, কিন্তু গত চার দিন ধরে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্রযন্ত্রে আজ আমাদের বসবাস। দেশের এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ডক্টর ইউনূস দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী নির্বাচন উপহার দিবেন।”
এ সময় নাজমুল হাসান তাদের ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্সের পদত্যাগ। ২. আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে এবং কোনোভাবেই তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যাবে না। ৩. সীমান্তরক্ষী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধ এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওসমান হাদির শুটার ফয়সাল ও মাসুদকে ফেরত না দিলে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধের হুশিয়ারি। ৪. আওয়ামী লীগের কেউ যেনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করতে না পারে, তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। ৫. ৩১ আগস্ট ভিপি নুরের ওপর হামলায় জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর গুলি চালানোর মতো গুরুতর ঘটনার পরও অপরাধীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারে তিনি কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। তিনি অর্থ পুরস্কার ঘোষণাকে প্রহসন এবং তামাশা বলে উল্লেখ করেন। রাকিবুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দেন যে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগ না করলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের পরিবর্তে কেবল প্রতীকী কর্মকাণ্ড জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। তার মতে, বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ন্যূনতম দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর করার পরিবর্তে তিনি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে ব্যস্ত থাকেন, যা জনগণের জন্য হতাশাজনক। রাকিবুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অবিলম্বে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় তাকে ঘাড় ধরে নামাতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
















