সীমান্ত পথে ভারতে পালানোর বিষয়ে শতভাগ প্রমাণ মেলেনি, মানবপাচারকারী গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা
শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পর অভিযুক্তরা ময়মনসিংহ সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পালিয়েছে কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা আট আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত স্থানীয় মানবপাচারকারীকে আটকের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর খাগডহর বিজিবি ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হামলাকারীরা পাচারকারীদের সহায়তা ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে না। পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সূত্রের তালিকায় বারবার একই মানবপাচারকারীর নাম উঠে আসছে।
তিনি জানান, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় গত শুক্রবার রাত থেকে ময়মনসিংহের সম্ভাব্য সব পাচার রুটে টহল জোরদার করা হয় এবং একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়। পরদিন পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ঢাকা থেকে আগত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দুটি স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।
সন্দেহভাজন মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নালকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। নালিতাবাড়ীর বারোমারি এলাকায় বিজিবির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফিলিপকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী ডেলটা চিরান, শ্বশুড় ইয়ারসন রংডি এবং মানবপাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকালে আরেক মানবপাচারকারী বেঞ্জামিন চিরামকে আটক করা হয় এবং বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
















