বৈরুত হামলার পর অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মার্কিন GBU-39B নিয়ে তেহরানের কাছে প্রযুক্তি পাচারের আশঙ্কা
লেবাননের দাহিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলার পর পাওয়া অবিস্ফোরিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ঘিরে নতুন তথ্য প্রকাশ— যুক্তরাষ্ট্র মরিয়া হয়ে ফেরত চাইছে, আরব গণমাধ্যম বলছে প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ইরানের হাতে।
লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নতমানের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র GBU-39B এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, আর বিভিন্ন আরব গণমাধ্যম দাবি করছে— ক্ষেপণাস্ত্রটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতোমধ্যেই ইরানের হাতে পৌঁছে গেছে।
২৪ নভেম্বর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করলেও একটি বিস্ফোরিত না হয়ে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় মাটিতে পড়ে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটির ডানা, বডি ও ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট অক্ষত থাকায় এর প্রযুক্তি ফাঁসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ওয়েবসাইট Asian Defence Security জানায়— এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “একটি দুঃস্বপ্নের দৃশ্য”, কারণ এমন অস্ত্র গোপন প্রযুক্তি রক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল।
লেবাননের সরকারি সূত্রসহ আরব গণমাধ্যম Al-Mashhad ও Nashra জানিয়েছে— ক্ষেপণাস্ত্রটি দ্রুত ফেরত নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন বৈরুতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরি যোগাযোগ করে। তাদের উদ্বেগ— ইরান, চীন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলো যদি এই প্রযুক্তি হাতে পায়, তাহলে তা মার্কিন কৌশলগত সক্ষমতার জন্য বড় আঘাত হবে।
কেন GBU-39B এত গুরুত্বপূর্ণ?
২৫০ পাউন্ড ওজনের হালকা কিন্তু অত্যন্ত উন্নতমানের এই বোমাটি দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানতে পারে, শত্রুর রাডার ফাঁকি দিতে পারে এবং যেকোনো আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম। F-35, F-15E ও F-16 যুদ্ধবিমানের জন্য এটি অন্যতম নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অস্ত্র।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির অ্যাক্সেস ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচিকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ইয়েমেনের গণমাধ্যম Al-Masirah দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ ক্ষেপণাস্ত্রটির কিছু ইলেকট্রনিক উপাদান তেহরানে পাঠিয়েছে।
ইরানের আগ্রহ ও রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং দাবি
ইয়েমেনি সূত্র আরও বলছে, ইরান অতীতে মার্কিন ভারী বোমা GBU-57-এর নকশা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে এবং বর্তমানে সেই প্রযুক্তি নিজেদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ফাত্তাহ ও খোররামশহর-৪-এ ব্যবহার করছে। যদিও এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবুও আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে— মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক শক্তির ভারসাম্যে এর সম্ভাব্য প্রভাব বিশাল।
আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি পেয়েছিল ইরান
২০১১ সালে ইরান মার্কিন স্টিলথ ড্রোন RQ-170 Sentinel সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নামিয়ে আনে। সেই ড্রোনের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফলাফল ছিল শাহেদ-১৬১— যা পরবর্তীতে ইরানের ড্রোন শক্তি বৃদ্ধির বড় মাইলফলক।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কৌশলগত ক্ষতি
বিশ্লেষকদের মতে, অক্ষত অবস্থায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হারানো শুধু ‘সামরিক লজ্জা’ নয়— বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি প্রতিপক্ষের কাছে গেলে তাদের পাল্টা সক্ষমতা উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান, আর ওয়াশিংটনের উদ্বেগ— মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন এক পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়ে গেছে।















