এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হওয়ায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বুধবার বিকেলে শরিক দলগুলো নিজেরাই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। গত সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আসন সমঝোতা দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বিবেচনায় রেখে বিএনপি শরিকদের মধ্যে এমন নেতাদের জন্য আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। জোটের জ্যেষ্ঠ কিন্তু বিজয়ের সম্ভাবনা কম থাকা নেতাদের জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পদে মূল্যায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
আসন সমঝোতার লক্ষ্যে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি শরিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা করছে। মঙ্গলবার রাতে গণতন্ত্র মঞ্চের এক শরিক দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তিনি ঢাকার শিল্পাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়ন চাইছেন, যেখানে বিএনপি ইতোমধ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে নিষ্ক্রিয় থাকা একজন নেতাকে প্রার্থী করেছে।
গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণ-অধিকার পরিষদ ও নেজামে ইসলাম পার্টির ঊর্ধ্বতন নেতারা বুধবার নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে বৈঠকে বসবেন। নেতারা বলছেন, যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা হতে পারে, অথচ সময় হাতে মাত্র দুই মাস। বিএনপি আগেই ২৩৭ আসন ঘোষণা করেছে, পরে আরও ৩৬টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু শরিকদের আসন বণ্টন এখনও ঝুলে আছে, যা শেষ মুহূর্তে তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিএনপি এখন পর্যন্ত দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আছে ২৮টি। এর মধ্যে কতগুলো শরিকদের জন্য রাখা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। দলীয় সূত্র বলছে, শরিকদের জন্য ১২–১৩টি আসন ছাড়ার আলোচনা চলছে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে আসন সমঝোতা নিয়ে শরিকরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। কিছু আসনে—কুষ্টিয়া–২, মৌলভীবাজার–২, নড়াইল–২, কিশোরগঞ্জ–৫ ও যশোর–৫—যেখানে আগে জোটের প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বিএনপির নিজের প্রার্থী ঘোষণায় ক্ষোভ বাড়ছে।
অন্যদিকে শরিকদের কেউ কেউ বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিয়ে লক্ষ্মীপুর–১ আসনের প্রার্থী হয়েছেন। এনডিএম নেতা ববি হাজ্জাজকেও একইভাবে প্রার্থী করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ লেবার পার্টি ইতোমধ্যেই বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শরিকদের আশ্বস্ত করার জন্য ক্ষমতায় গেলে যথাযথ মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দায়িত্ব নির্দিষ্ট নেতাদের উপর দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য সদস্যরা।














