থাইল্যান্ড–কাম্বোডিয়া সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর থাই সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, আর একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর অভিযোগ তুলছে উভয় পক্ষ।
সোমবার থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর–জেনারেল উইনথাই সুভারি জানান, উবন রাচাথানি প্রদেশে সংঘর্ষে এক থাই সেনা নিহত হওয়ার পর কাম্বোডিয়ার হামলা দমন করতে থাই বিমান বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। তিনি জানান, অন্তত চারজন আরও আহত হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিট থেকে কাম্বোডিয়া সেনারা ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ও বাঁকা গতিপথের অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। সকাল ৭টার দিকে থাই সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবর আসে।
তবে কাম্বোডিয়া এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফেসবুকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে কাম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, থাইল্যান্ডই প্রথম ভোর ৫টায় হামলা শুরু করে এবং বহুদিন ধরে থাই বাহিনীর ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ পর এই সংঘর্ষ ঘটেছে। দিনশেষে কাম্বোডিয়ার ওদ্দার মেঞ্চি প্রদেশের উপ-গভর্নর জানান, থাই হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
এর আগে রবিবার ফু ফা লেক–ফ্লান হিন পায়েট কন এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে স্বল্প সময়ের আরেক সংঘর্ষ ঘটে। উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করে। থাই সেনাবাহিনী জানায়, কাম্বোডিয়ার গুলিতে তাদের দুই সেনা আহত হয়, পরে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে ২০ মিনিটের গোলাগুলি চলে। কাম্বোডিয়া দাবি করে, থাইল্যান্ড আগে গুলি চালায় এবং তাদের সেনারা জবাব দেয়নি।
জুলাইয়ে পাঁচ দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তে নানা ঘটনায় উত্তেজনা আবার পুঞ্জীভূত হচ্ছে।
গত মাসে একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে থাই সেনা আহত হলে ব্যাংকক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন স্থগিত করে। কাম্বোডিয়া জানায়, বিস্ফোরণটি পুরোনো সংঘাতের অবশিষ্ট মাইন থেকে হয়েছে।
থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সোমবার বলেন, “থাইল্যান্ড কখনো সংঘর্ষ চায় না। থাইল্যান্ড কখনো আগ্রাসন শুরু করেনি, কিন্তু সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলে তা বরদাশত করা হবে না।”
কাম্বোডিয়ার পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না এবং আগের সব চুক্তির প্রতি সম্মান রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনও সীমান্তবর্তী সৈন্যদের সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, থাই বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়াতে চাইছে।
সংঘর্ষে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাম্বোডিয়ার ওদ্দার মেঞ্চি প্রশাসনও জানিয়েছে, সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারীরা পালিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। নিরাপত্তার কারণে সেদেশের প্রদেশটিতে সোমবার সব স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উভয় দেশকে সংযম ও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অনির্ধারিত সীমান্তে শত বছরের বিবাদই দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘর্ষের মূল কারণ।
















