স্মার্টফোন প্রবেশাধিকার বাড়াতে শুল্কনীতি সংস্কার, অবৈধ আমদানি দমন ও এনইআইএ কার্যক্রম চালুর ঘোষণা—ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করবে সমন্বিত নীতিমালা, বললেন বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ডিভাইস, ডেটা ও সেবাখাতে একযোগে নীতি–সংস্কার আনছে সরকার। স্মার্টফোন প্রবেশাধিকার, সুলভ ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিস্তারই লক্ষ্য। ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ডিভাইস, ডেটা এবং সেবাখাতে একযোগে নীতি–সংস্কার শুরু করেছে সরকার। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, সুলভ ডেটা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিস্তার ঘটবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অনার বাংলাদেশ’-এর কারখানা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে স্মার্টফোন প্রবেশহার এখনও ৪১–৪৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত। ভুল নীতি, অবৈধ আমদানি ও বাজারে অস্থিরতার কারণে ২০২১ সালে বছরে এক কোটি স্মার্টফোন বিক্রি হলেও তা কমে ৮০ লাখে নেমে আসে। ভারত ও পাকিস্তানে প্রবেশহার যথাক্রমে ৭৫ ও ৬২ শতাংশ হওয়ায় আঞ্চলিক মানে পৌঁছাতে নীতি সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, সংযোগে প্রবেশাধিকার, ডেটা অ্যাক্সেস ও সেবা—এই তিনটি খাত সমন্বিতভাবে এগোতে পারলেই দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। এজন্য আইসিটি বিভাগ, টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসি সম্মিলিতভাবে নীতিমালা সংস্কারে কাজ করছে। স্মার্টফোন উৎপাদন শিল্পকে কর্মসংস্থান–বান্ধব বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী বছর উৎপাদন লাইন চারটিতে উন্নীত করা হবে, যা দক্ষ কর্মী ও উদ্যোক্তা তৈরিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অবৈধ স্মার্টফোন আমদানি রোধে ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইএ কার্যক্রম চালু হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি আমদানি–শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে, যাতে স্থানীয় উৎপাদন আরও লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়।
ডেটা অ্যাক্সেস উন্নয়নে টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স নীতিমালা পুনর্গঠনের কথা জানান ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্তি সম্পন্ন হলে দেশের ইন্টারনেট সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। সাইবার নীতি, ডেটা সুরক্ষা এবং ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালাও বিশ্বমানের করে সাজানো হচ্ছে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, সঠিক নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে দেশের স্মার্টফোন প্রবেশহার ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০–৮০ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব। বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৪২–৪৫ শতাংশ স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহৃত হওয়ায় বাজারে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
হাইটেক পার্কে প্লট বরাদ্দ নীতিতেও স্বচ্ছতা আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায়। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতি–সহায়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রযুক্তিপণ্যের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম আমিরুল ইসলাম এবং স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
















