অঞ্চলভিত্তিক সময়সীমা প্রত্যাহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন
প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। অঞ্চলভিত্তিক সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২৫:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতদিন অঞ্চলভিত্তিক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিবন্ধন করতে হলেও এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে একটানা এই নিবন্ধনের সুযোগ মিলবে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার রাত ১২টা থেকে এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে এবং আগের পাঁচ দিন করে অঞ্চলভেদে নির্ধারিত সময়সূচি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, প্রবাসীরা নানা কারিগরি সমস্যায় পড়ছিলেন—এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই কমিশন নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে। এখন যে কেউ যেকোনো দেশ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
নিবন্ধনের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই করতে আগামী শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই রিহার্সাল কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জানান, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের জন্য প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি আগেই শুরু করা হয়েছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও জোরদার করতেই এই মহড়া আয়োজন করা হচ্ছে।
নির্বাচনকে ঘিরে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধে এদিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে টিকটক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অপতথ্য ছড়ানো রোধে কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে।
টিকটকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নীতিনির্ধারণ ও সরকারি সম্পর্ক বিভাগের প্রধান ফেরদৌস মুত্তাকিম জানিয়েছেন, নির্বাচন সুরক্ষায় তাদের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আলাদা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য এই উন্মুক্ত নিবন্ধন ব্যবস্থা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
















