বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ
নিরাপদ জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত
গত বছরে সমুদ্রপথে পালাতে গিয়ে প্রায় নয়শ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামুদ্রিক যাত্রার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত এক দশকে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন, ফলে এই অঞ্চল কার্যত এক অচিহ্নিত গণকবরস্থানে পরিণত হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এবং এখনও সেখানে অবস্থান করছেন।
তবে শরণার্থী শিবিরে সীমিত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বের হচ্ছেন।
চলতি বছর ইতোমধ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উপকূলীয় এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেন, গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়াকে বেছে নেন।
এই যাত্রায় নারী ও শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যারা মানব পাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্প্রতি একটি নৌকাডুবির ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খারাপ আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
জাতিসংঘ বলছে, এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের চরম দুর্দশার প্রতিফলন এবং এর স্থায়ী সমাধানের জন্য জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ প্রত্যাবাসন, পর্যাপ্ত সহায়তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া এই মানবিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
















