কানাডায় শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাস্থ্যসেবায় কাটছাঁটের পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা কার্যত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার শামিল হবে।
টরন্টোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ
রাজধানী টরন্টোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। তারা সরকারের কাছে ইন্টারিম ফেডারেল হেলথ প্রোগ্রামে প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাতিলের আহ্বান জানান।
এই কর্মসূচির আওতায় আগামী ১ মে থেকে শরণার্থীদের কিছু স্বাস্থ্যসেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। প্রেসক্রিপশন ওষুধের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ এবং ডেন্টাল, চোখের চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রে মোট খরচের একটি অংশ নিজে বহন করতে হবে।
সরকারের অবস্থান
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সহ-পরিশোধ পদ্ধতি চালু করলে বাড়তে থাকা চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসূচিটি টেকসই থাকবে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবে এটি নতুন আগত ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
চিকিৎসক ও আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় অনেক শরণার্থীর জন্য বহন করা কঠিন হবে। ফলে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।
তাদের মতে, এতে দীর্ঘমেয়াদে রোগ আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং শেষ পর্যন্ত জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন বাড়বে, যা সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যয়ই বাড়াবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকটের কারণে অভিবাসন ও শরণার্থী নীতির প্রতি জনমত কিছুটা নেতিবাচক হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে ভিসা সীমিত করা এবং ব্যয় কমানোর উদ্যোগ রয়েছে।
তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাজেট সাশ্রয়ের নামে শরণার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা সীমিত করা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ
এর আগে ২০১২ সালে একই ধরনের কাটছাঁটের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল এবং ২০১৪ সালে আদালত রায় দিয়েছিল যে এই ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী।
সব মিলিয়ে, নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা আবারও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















