যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বর্ণবাদী সহিংসতার ঘটনা ১৯২১ সালের তুলসা হত্যাকাণ্ডের শেষ জীবিত সাক্ষীদের একজন ভায়োলা ফোর্ড ফ্লেচার আর নেই। ১১১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
অতিবৃদ্ধ বয়স সত্ত্বেও ফ্লেচার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে সক্রিয় ছিলেন এবং তুলসা হত্যাযজ্ঞের সত্য তুলে ধরার সংগ্রামের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।
তুলসার মেয়র মনরো নিকোলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের শহর আজ মাদার ফ্লেচারের শোক করছে। শহরের ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়ের একজন বেঁচে থাকা সাক্ষী ছিলেন তিনি। তার ১১১ বছরের জীবন ছিল সত্য, দৃঢ়তা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।”
ফ্লেচারের বয়স ছিল মাত্র সাত বছর, যখন ১৯২১ সালের ৩১ মে ও ১ জুন ওকলাহোমার তুলসায় সংঘটিত হয় ভয়াবহ বর্ণবিদ্বেষী সহিংসতা। বিচার বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন শ্বেতাঙ্গ নারীকে আক্রমণের অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ ডিক রাউল্যান্ডকে গ্রেফতারের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্বেতাঙ্গ জনতা তাকে লিঞ্চ করতে চাইলে কৃষ্ণাঙ্গরা তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসে এবং দ্রুত পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
পরবর্তী দুই দিনে স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ সশস্ত্র দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা তুলসার গ্রিনউড জেলা—তখনকার সমৃদ্ধ কৃষ্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক এলাকা—জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়। প্রায় ৩৫ ব্লক এলাকা পুড়ে যায়। আনুমানিক ৩০০ মানুষ নিহত ও শত শত মানুষ আহত হন, অনেককে অচিহ্নিত কবরেও দাফন করা হয়।
ফ্লেচার ও তার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন এবং পরে ভাগচাষির মতো কঠিন জীবনে পড়ে যান। পরবর্তীতে অভিযুক্ত নারী মামলা করতে অস্বীকার করায় রাউল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগও প্রত্যাহার করা হয়।
ঘটনাটি দীর্ঘ সময় জাতীয়ভাবে তেমন আলোচনায় না এলেও ১৯৯৭ সালে ওকলাহোমা রাজ্য তদন্ত কমিশন গঠন করে পুনরায় আলোচনায় আসে। ২০০১ সালে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হলেও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তা ব্যর্থ হয়।
২০২১ সালে হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষে ফ্লেচার মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন এবং ২০২৩ সালে নাতির সঙ্গে মিলে নিজের স্মৃতিকথা Don’t Let Them Bury My Story প্রকাশ করেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বার্তায় ফ্লেচারকে স্মরণ করে বলেন, “তুলসা হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হিসেবে ভায়োলা ফোর্ড ফ্লেচার সাহসের সঙ্গে তার গল্প শেয়ার করেছেন, যাতে ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায় আমরা ভুলে না যাই।”
















