রান্নাঘরে ঢুকলে কি কখনো মনে হয় ধোঁয়ার কারণে চোখে বা নাকে অস্বস্তি লাগছে? কিংবা রান্না শেষ করে বাইরে বের হলে শ্বাসটা কিছুটা ভারী মনে হয়?
অনেকেই এমন লক্ষণকে সাধারণ বিষয় ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু প্রতিদিনের এই ধোঁয়া নীরবে ফুসফুসের গভীরে ক্ষতি করতে পারে এবং সেখান থেকেই শুরু হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের রোগ সিওপিডি।
আজ ১৯ নভেম্বর বিশ্ব সিওপিডি দিবস। এই দিনটি বিভিন্ন দেশে পালিত হয় মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে। কারণ রান্নার ধোঁয়া, ঘরের দূষিত বাতাস, ধূমপান এবং কারখানার দূষণ ধীরে ধীরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। সময়মতো সতর্ক না হলে এই নীরব রোগ জীবনকে বিপদে ফেলতে পারে।

রান্নার ধোঁয়া সিওপিডির ঝুঁকি বাড়াতে পারে
নারীরা কি বেশি ঝুঁকিতে
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে সিওপিডিতে আক্রান্ত নারীদের বড় একটি অংশ কখনো ধূমপান করেননি। কারণ তারা প্রতিদিন রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় কাজ করেন, যেখানে অনেক সময় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল থাকে না। বিশেষ করে মাটির চুলায় রান্না বেশি ক্ষতিকর। কাঠ, খড় বা কয়লার মতো জ্বালানি ব্যবহারের ফলে প্রচুর ধোঁয়া তৈরি হয় এবং তা সরাসরি শ্বাসনালিতে ঢুকে ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

ধোঁয়া কেন এত ক্ষতিকর
রান্নার ধোঁয়ায় থাকা সূক্ষ্ম কণা পিএম দুই পয়েন্ট পাঁচ ফুসফুসের গভীরে গিয়ে শ্বাসনালী সংকুচিত করে। ফলে অক্সিজেন আদান প্রদানে সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় থাকলে কাশি, হাঁপ ধরা, শ্বাসকষ্ট এবং বারবার সংক্রমণের মতো সমস্যা হতে পারে।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
১. রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন।
২. সম্ভব হলে ধোঁয়াবিহীন চুলা ব্যবহার করুন, যেমন এলপিজি বা ইন্ডাকশন।
৩. রান্নাঘরে এক্সহস্ট ফ্যান লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিন।
৪. শিশু এবং বয়স্কদের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন।
৫. শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।















