অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার এপিএস আশিকুর রহমান সরকারি গাড়িতে নোবিপ্রবির প্রভাষক পদের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। বন অধিদফতর জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে—পরীক্ষার্থী কীভাবে এলেন তা নিয়োগ বোর্ডের কাজ নয়।
সরকারি গাড়িতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিতর্কে উপদেষ্টার এপিএস, বন অধিদফতরের তদন্ত শুরু
নোয়াখালী, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ — নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষায় সরকারি লোগোযুক্ত গাড়িতে উপস্থিত হয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আশিকুর রহমান। শনিবার অনুষ্ঠিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি বন অধিদফতরের সরকারি গাড়িতে এসে অংশ নেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পোস্টের পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দুই প্রভাষক পদের জন্য ২৭ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে আশিকুর রহমানও ছিলেন। লিখিতের পর ১৪ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়।
“অসুস্থ ছিলাম, সাহায্য নিয়েছি”—এপিএস আশিকুর
সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রশ্নে আশিকুর রহমান বলেন,
“আমি খুব অসুস্থ ছিলাম। রাত ২টায় পরীক্ষার খবর পাই। কেউ যদি আমাকে সাহায্য করে, এতে দোষ কোথায়? আমি কোনও নিয়োগ-বাণিজ্য করিনি।”

তিনি দাবি করেন, তার প্রোফাইল দেখে কেউ একজন ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রচার করেছেন।
বন অধিদফতরের তদন্ত নির্দেশ
আশিকুর রহমানের ব্যবহৃত গাড়িটি বন অধিদফতরের সহকারী প্রধান বন সংরক্ষকের ঠিকানায় নিবন্ধিত বলে জানা গেছে।
বন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হক মাহবুব মোরশেদ বলেন—
“গাড়িগুলো রেঞ্জ কর্মকর্তার অধীন থাকে। আমি ঘটনাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন: ‘যেভাবে আসুক, বোর্ড দেখে না’
নোবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তামজিদ হোছাইন বলেন—
“কে কীভাবে পরীক্ষায় এলেন, এটি নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্ব নয়।”
প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ কে এম আবদুল আওয়াল মজুমদার বলেন—
“মন্ত্রী বা পিএসের সরকারি গাড়ি থাকতেই পারে, কিন্তু ঢাকা থেকে নোয়াখালীতে গিয়ে সরকারি গাড়িতে পরীক্ষা দেওয়া—এটি স্পষ্ট বাড়াবাড়ি।”
ঘটনাটি সরকারি সম্পদ ব্যবহারের নীতিমালা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
















