যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার এক বছরের বেশি সময় পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন মন্তব্য আলোচনায়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সরাসরি ভূমিকার প্রমাণ নেই।
“আমেরিকার হাত নেই”—উল্টো সুরে শেখ হাসিনা, বিতর্ক বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়
ঢাকা, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ — ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রচারিত নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে বলেছেন, তার সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা কোনো শক্তির সরাসরি হাত ছিল বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর এই নতুন মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাই ওয়াশিংটন সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছে—এটি বিশ্বাস করার ভিত্তি নেই।”
এ বক্তব্য তাঁর পূর্বেকার বক্তব্যের পুরোপুরি বিপরীত।
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর দলের নেতারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছিলেন। এমনকি ভারতের ইকোনমিক টাইমস ও রাশিয়ার ‘আরটি’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি দাবি করেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ চায়”—এই কারণে তাঁর সরকারকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইউনূসকে নিয়ে নতুন মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে হাসিনা আরও বলেন,
“ড. মুহাম্মদ ইউনূস পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন। সেই ভাবমূর্তি তাঁকে গণতান্ত্রিক যোগ্যতা হিসেবে ভুলভাবে দেখানো হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো “ইউনূসকে বন্ধু হিসেবে দেখে প্রতারিত হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা: ‘রাজনৈতিক ক্যালকুলেশন পাল্টেছে’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
হাসিনার এই অবস্থান পরিবর্তন তাঁর আন্তর্জাতিক আইনি পরিস্থিতি, মানবাধিকার তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়ার চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে দমন-পীড়নের পর দেশজুড়ে বিস্তৃত আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR) জানিয়েছে –
১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত, হাজার হাজার আহত এবং প্রায় ১১,৭০০ জনকে আটক করা হয়েছিল।
বিবিসির অনুসন্ধানে ফাঁস হওয়া অডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে “প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি” নিজেই দিয়েছিলেন হাসিনা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার
মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, প্ররোচনা এবং দমন-পীড়নের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা চলছে।
১৭ নভেম্বর তাঁর একটি মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা।
হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাই অনেকেই “রাজনৈতিক সুর পরিবর্তন এবং নিজেকে আন্তর্জাতিকভাবে পুনঃস্থাপনের চেষ্টা” হিসেবে দেখছেন।
সরকার বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
















