বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় আ.লীগ-সমর্থকদের ২০–৩৫% ভোট—নির্বাচনী মাঠে বড় তিন দলের কৌশল বদলে দিচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী, হাতপাখা, দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ—সব প্রতীকেই এখন লক্ষ্য আ.লীগের কর্মীদের ভোট।
বরিশাল, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ — আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটারগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বরিশাল অঞ্চলে তীব্র কৌশলগত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই তিন দলই আ.লীগ–সমর্থকদের ভোট টানতে মাঠে সক্রিয়।
দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় আ.লীগ–কর্মী ও সমর্থকদের ভোট ২০% থেকে ৩৫% যা যেকোনো আসনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক গবেষকরা মনে করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ‘নীরব সমর্থন’ দিতে পারে আ.লীগের একটি অংশ
বরিশাল জেলা আ.লীগের এক নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই, কিন্তু এলাকার বঙ্গবন্ধু–সমর্থিত পরিচ্ছন্ন প্রার্থীদের নীরবে সমর্থন দেওয়া হতে পারে।”
তিনি আরও দাবি করেন, জনগণের মাঝে আ.লীগের “উন্নয়নভিত্তিক ইমেজ” এখনও সক্রিয়।
জামায়াত–ইসলামী আন্দোলন মাঠ দখলে সক্রিয়
৫ আগস্টের পর বরিশালের ২১টি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত।
দলটি ইতিমধ্যে মোটরসাইকেল শোডাউন থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে পুরো অঞ্চল ভরে গেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) হাতপাখা প্রতীকও বরিশালে ব্যাপক দৃশ্যমান। দলটি বলছে—
আ.লীগ–সমর্থক ঘরানার ভোটারদেরও তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
বিএনপির মনোনয়ন বাকি, তবে মাঠ গরম ৩১ দফায়
বিএনপি এখনো বরিশালে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেনি। তবে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে স্থানীয় নেতারা সবাই তাদের এলাকায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন।
বিএনপি নেতারা বলছেন—
আ.লীগের ভুল বুঝে এবারের নির্বাচনে ‘যোগ্য প্রার্থী’কে বেছে নেবে ভোটাররা।
তারা ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার–প্রস্তাবের লিফলেট এলাকাজুড়ে বিতরণ করছেন।
বরিশাল সদর আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন,
“আ.লীগের কর্মী-সমর্থকদের ভোটার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তারা যাকে ভালো মনে করবেন, তাকেই নির্বাচিত করবেন।”
খেলাফত মজলিসও ২১টি আসনে সক্রিয়
দলটি প্রতিটি ঘরে গিয়ে ভোট চাইছে এবং আ.লীগ–ঘরানার ভোটারদের কাছেও আবেদন জানাচ্ছে।
কেন আ.লীগের ভোটাররা এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
- দক্ষিণাঞ্চলে আ.লীগের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক উপস্থিতি
- সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী সংখ্যা
- এবং নতুন কোনো দলকে ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বিধা
—এসব কারণেই এ ভোটব্যাংক এখন তিন বড় দলের প্রথমসারির লক্ষ্য।
















