ড. অলি আহমদের বিস্ফোরক মন্তব্য: জিয়া হত্যায় শেখ হাসিনা ও এরশাদের জড়িত থাকার অভিযোগ
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
ড. অলি আহমদ দাবি করেন যে, জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ও এরশাদ জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসার ১৭ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়।
জিয়া হত্যাকাণ্ড ও শেখ হাসিনা
জিয়াউর রহমান হত্যার সঙ্গে শেখ হাসিনা ও এরশাদের জড়িত থাকার অভিযোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ড. অলি আহমদ বলেন:
- শেখ হাসিনা দেশে আসার ১৭ দিনের মধ্যেই জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
- তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং আখাউড়া সীমান্তে ধরা পড়েন।
- ড. অলি আহমদ আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের হত্যার পর শেখ হাসিনা ও সাজেদা চৌধুরী আখাউড়া সীমান্তে ধরা পড়েন। তিনি বলেন, “আমরা তাদের সম্মানের জন্য এটা প্রকাশ করি নাই।”
শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর “পুরা বাংলাদেশে মিষ্টি বিতরণ করা হয়” এবং সাধারণ জনগণ আনন্দ উল্লাস করে যে, “নমরুদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে।” তিনি শেখ মুজিবুরের পরিবারকে “বাংলাদেশের জন্য ধ্বংসের পরিবার” হিসেবে আখ্যা দেন, যার প্রমাণ পরবর্তী পর্যায়ে শেখ হাসিনাকে দেখে বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন।
জাতির পিতা ও সামরিক দুর্বলতা
শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ঘোষণার বিষয়ে ড. অলি আহমদ মন্তব্য করেন যে, তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) “তো ছিলেন সর্বসর্বা। সামরিক বাহিনীর শক্তি ছিল দুর্বল। আমাদের কিছু করার ছিল না।”
তিনি জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার হত্যার সময় শেখ হাসিনা জার্মানিতে ছিলেন। সেখান থেকে হুমায়ূন রশীদের সহায়তায় তিনি ভারতে যান। ড. অলি আহমদের দাবি, “ভারতের দ্বারা প্রশিক্ষিত হয়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন” এবং দেশে আসার ১৭ দিনের মধ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পর জিয়াউর রহমানের মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে অলি আহমদ বলেন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর জিয়াউর রহমান কোনোটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
- মোস্তাকের নেতৃত্বে সবাই মিলে একটি সরকার গঠন করে এবং মোস্তাক সামরিক শাসন জারি করেন।
- কর্নেল তাহেরকে দেশকে অস্থিতিশীল করার দায়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, এতে জিয়াউর রহমানের কোনো হাত ছিল না।
স্বাধীনতা ও বিদেশী হস্তক্ষেপ
দেশের স্বাধীনতা ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের অঙ্গ রাজ্য হওয়ার জন্য যুদ্ধ করি নাই। আমরা চেয়েছি বাংলাদেশের জনগণ দেশকে শাসন করবে ও দেশকে সামাল দেবে। অন্যের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না।”
তিনি খালেদ মোশাররফকে “আওয়ামী লীগের হয়ে ভারতের দালাল হিসেবে” কাজ করার অভিযোগ করেন, যার ফলে তার পরিণতি শেখ মুজিবুর রহমানের মতো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন।
















