সরকারি বিভিন্ন সহায়তা, ভাতা, অনুদান ও কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড় কয়ড়া ও একডালা পূর্বপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী নারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মো. আব্দুল আলিম ও মোছা. ফরিদা বেগম সরকারি বিভিন্ন সহায়তা, ভাতা, কার্ড ও অনুদান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় নারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এভাবে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী জোছনা খাতুন বলেন, ‘সরকারি সহায়তা ও ভাতা পাওয়ার আশায় আমার কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো সুবিধা পাইনি। টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমরা দরিদ্র মানুষ, কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়েছি। এখন টাকা ফেরতসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
মো. হাবিল উদ্দিন বলেন, ‘এলাকার অনেক দরিদ্র নারীর কাছ থেকে সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই টাকা দেওয়ার পরও কোনো সুবিধা পাননি। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
হাফিজা বেগম বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সহায়তা পাইনি। টাকা ফেরত চাইলে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমরা টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই।’
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। মানববন্ধন থেকে অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরতের দাবি জানানো হয়।
তবে অভিযুক্ত মো. আব্দুল আলিম ও মোছা. ফরিদা বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
















