ইরানে গত এক সপ্তাহে শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন সামরিক প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, ফলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আবারও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব বলেন, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় হামলা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
গত কয়েক দিনে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বহু শহর, বন্দর ও দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় সামরিক স্থাপনা, বন্দর এলাকা এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত দ্বীপগুলো। বিশ্লেষকদের মতে, এসব দ্বীপ থেকে ইরান জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত চাপ সৃষ্টির মাধ্যম। তাদের মতে, এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরানের দরকষাকষির সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থেকেও হামলা চালানো হলে সেগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করতে পারে তেহরান।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় একশ জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও যুদ্ধবিরতির পরও সেই সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধ পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন মাত্র ২৪টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে। নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং ইউরোপ-এশিয়ার বাণিজ্য বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
















